লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার আওতায়ধীন হাজীমারা ফাঁড়ী থানার সংলগ্ন দক্ষিণে বেড়িবাঁধ এর উত্তর পাশে খালের উপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে অভিযুক্তকারী আলমগীর হোসেন এর ইট ধারা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ চলছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায় রায়পুর চরকাচীয়া মৌজা বেড়িবাঁধের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে শত শত পাকা ও আধাপাকা ভবন,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কাঠের তৈরি বসত ঘর। পাশাপাশি রয়েছে নির্মাণাধীন কয়েকটি স্থাপনা। তবে এসব স্থাপনাই নির্মাণ করা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জায়গা দখল করে।
জানা গেছে, বিভিন্ন সময় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তালিকা ও চিঠি প্রধান হলেও মানছেন না অবৈধ স্থাপন নির্মাণ দখল কারীরা। ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বাসিন্দা বাইশার পুত্র অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কারী মালিককে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া ও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে রায়পুর থানার আওতায় ভুক্ত হাজীমারা ফাঁড়ী থানা ইনচার্জ মমিনুল হক কে চিঠি দিয়েছে রায়পুর শাখা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রায়পুর হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ি থানা সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেরিবাঁধের দুই পাশজুড়ে দখলদারদের দাপট। নির্মিত হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাসাবাড়ি, দোকানপাট, কারখানা ও মার্কেট।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফফার বলেন, এখানে বেরিবাঁধ হয়েছে অনেক আগে। সড়কের দুই পাশে ফাকা জায়গা ছিল। পানিও ছিল, সবাই বালু ভরাট করে ভবন নির্মাণ করেছে। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তারাই টিন সেট ঘর বা ইট দিয়ে ভবন নির্মাণ করে ।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, এসব ভবন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অজানা নয়। একটা সাইট ওয়াল নির্মাণ ভবন করতে কমপক্ষে একমাস লাগে, যখন নির্মাণ করেছে তখন কেন বাঁধা দেয়নি। আবার দেখবেন দখলদাররা বহাল তবিয়তে আছে। আসলে টাকার কাছে সবাই দুর্বল।চরকাচিয়া মৌজার হাজিমারা বাজার ও পুলিশ ফাঁড়ী বেড়িবাঁধের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে শত শত পাকা ও আধাপাকা ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কাঠের তৈরি বসত ঘর তবে এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, যে জমিতে আলমগীরের ইট নির্মাণ হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দখলদার বলেন, সরকারি জায়গায় সরকারি লোকের সম্মতি ছাড়া আমরা ভবন করিনি।এলাকার স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, দখলদাররা যতই শক্তিশালী হোক তাদের উচ্ছেদ করে সরকারি জমি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে ব্যবহার করা হোক।
২৫ই মার্চ রোজ বুধবার সকাল ১১টার সময় দৈনিক লক্ষ্মীপুরের কথা পত্রিকার সম্পাদক লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা কার্যালয়ে গিয়ে রায়পুর শাখার উপ-সহকারী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান কে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাইলে তিনি ঘটনার স্থলে পরিদর্শন করেন এবং রায়পুর হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ী থানার ইনচার্জ মমিনুল হক এর নিকট অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে একটি অভিযোগের সাধারণ ডায়েরি করেন।
এদিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পাউবো লক্ষ্মীপুর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, নতুন করে কেউ যেনো অবৈধ দখল করতে না পারে সেজন্য কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। আর নোটিশ জারির পরে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। সেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই শুরু হবে আবারও উচ্ছেদ অভিযান।
দখল প্রক্রিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই দপ্তরের কোনো কর্মচারী -কর্মকর্তা যদি এমন কাজে যুক্ত হয় এবং এর প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পাউবোর তথ্য অনুযায়ী,সরজমিনএ গিয়ে দেখা যায় লক্ষ্মীপুর রায়পুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ৩ হাজার ৬শ’ একর জমির অধিক জমি রয়েছে, এসব জমিতে প্রায় হাজার হাজার অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাকিব হোসেন সোহেল
কার্যালয় : রুম নং ২১, উত্তর স্টেশন মার্কেট ২য় তলা, লক্ষ্মীপুর
www.lakshmipurerkotha.com